শিক্ষামূলক গল্প " দ্বীনে ফেরা"

অতি সাধারণ মেয়ে মিমি। আর পাঁচটা সাধারন মেয়ের মতোই তার বেড়ে ওঠা। তবে ছোট থেকে তার দিনের বুঝ খুব একটা ছিলো না।। নানান পাপের সাথে জড়িত ছিলো। এভাবে পাপের মধ্য দিয়ে দিন কাটছিলো মিমির।

তখন সে নবম শ্রেণির ছাত্রী। মায়ের ফোনটা তার কাছে রাখার পারমিশন পায়। এসময় তার বান্ধবীদর কাছ থেকে ফেসবুক এর গল্প শুনতে শুনতে তারও খুব করে আগ্রহ হয় ফেসবুক চালানোর। একদিন তার মায়ের ফোনে ফেসবুক আইডি খোলার চেষ্টা করতেই সে সফল হয়ে যায়।

এরপর থেকে চলতে থাকে তার লুকিয়ে ফেসবুক চালানো। ক্লাসমেট সহ অন্য ছেলেদের তার কথা বার্তা চলতো মেসেঞ্জারে। শুরু হয় পাপের আরেকটি অধ্যায়। ক্লাসমেট কিছু ছেলের অনেক ক্লোজ হয়ে পড়ে। জড়িয়ে পড়ে ছেলে বেস্ট ফ্রেন্ড নামের পাপে। এরই মাঝে তার এলাকারই ছেলে সুমনের সাথে পরিচয় হয়। তার সাথে নিয়মিত কথা হতে থাকে।মিমি ও সুমন দুজন দুজনের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। এভাবে একটা সময় ছেলেটি মিমিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় আর মিমিও রাজি হয়ে যায়।। তৈরি হয় একটি হারাম সম্পর্ক।

তারপর বন্ধু বান্ধবী বয়ফ্রেন্ড নিয়ে মিমির জীবন বেশ চলছিলো। দেখা করা, স্কুল ফাকি দিয়ে ঘুরতে যাওয়া, ছোট ছোট গিফট আদান প্রদান করা এগুলো কে সে খুব সুখের ভাবতো। মিমি সুমমকে ছাড়া যেন কিছু ভাবতেই পারতো না।কিন্তু এভাবে আর কতদিন?? 

সুমনের বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ায় তাদের সম্পর্কের ইতি টানতে হয়।

শুরু হয় মেয়েটির নতুন লড়ায়। যখন প্রিয়জন হারানোর নিদারুণ কষ্টে ভুগছিলো তখন তার পাশে কেউ দাড়য়নি বরং তার সব আপন মানুষ সব বদলে যেতে শুরু করে। বন্ধুমহলে সে হয়ে ওঠে ঠাট্টার পাত্রী আর অন্যদিকে তার ভালোবাসার মানুষটিও বেশ সুখেই সংসসার করছিলো। প্রচন্ড আত্মসম্মানে আঘাত সে আর মেনে নিতে না পেরে ঠিক করেছিলো আত্মহত্যা করবে।যখন সে ফাইনাল করলো সে আত্মহত্যা করবে তখনই তার মাথায় আসে যে দুনিয়ার কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য না হয় আত্মহত্যা করলো কিন্তু পরকালের কষ্ট থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে। আত্মহত্যা যে মহাপাপ।।এটা হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য হেদায়েতের ডাক ছিলো।। 

এরপর থেকেই বদলে যেতে শুরু করলো সে। ফিরে আসলে দ্বীনের পথে। ধীরে ধীরে সব পাপ ছেড়ে দিতে লাগলো। যেসব বিরহের গান শুনে চোখের পানি ফেলতো সেসব গান একনিমিশেই ডিলিট করে দিলো। নিজের ভুল সে বুঝতে পারে। বন্ধ করে দিলো ছেলে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করা।পরিপূর্ণ পর্দা শুরু করে দিলো। আপন পর ঠিক বেঠিক বুঝতে শিখলো।সম্পুর্ন বদলে গেল তার জীবন।

কিছুদিন আগে যে মেয়ে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে চোখের জলে বালিশ ভেজাতো আজ সে রবের ক্ষমা চেয়ে জায়নামাজ ভিজায়। যে মেয়েটি গভীর রাতে বিরহের গান শুনে কাটাতো আজ সে গভীর রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে। 

অতীতের পাপের জন্য ভীষণ ভাবে অনুতপ্ত মেয়েটি মাঝে মাঝে ভাবে অতীতের পাপগুলো না করলে হয়তো সে দ্বীন বুঝতে পারতো না।

যে আঘাতের জন্য আগে আফসোস করতো আজকে তার জন্য শুকরিয়া আদায় করে কারন ওই আঘাত যে রবের পক্ষ হতে আসা নিয়ামক।। জীবনের করা ভুল থেকে সে শিক্ষা নিয়ে আজ দ্বীন চিনেছে। ফিরেছে দ্বীনের পথে।

Comments

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ

Simple Person, Learner and Teacher