মাইকেল জ্যোকসেনের অজানা তথ্য

  হ্যালো বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে বলবো যিনি কখনো মরতে চান নি। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি নিজের জীবনকে বাড়ানোর জন্য প্রত্যেক সময় ডাক্তারদের একটা টিম সব সময় নিজের ঘরে রাখতেন। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি ছিলেন খাওয়া থেকে শুরু শুরু করে পান করা পর্যন্ত আগে বিশেষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো। তারপরে তিনি এই খাবার গ্রহণ করতেন। তিনি এমনই একজন ব্যক্তি যিনি নিজের জীবনকে বাড়ানোর জন্য অক্সিজেন চেম্বারের ঘুমাতেন। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ তাকে একজন বিখ্যাত ডান্সার হিসেবে জানেন। তিনি আর কেউ নন মাইকেল জ্যোকসন।

কিন্তু এমন কি হলো যে তার মৃত্যু কেবল মাত্র 50 বছর বয়সেই হয়ে গেল? কি কারণ ছিল যেটার কারনে কখনো মরতে না চাওয়া এই ব্যক্তি তার মুখকে সবসময় মাক্স দিয়ে পাবলিকের সামনে আসতো? এবং হ্যান্ড গ্লাভস না পড়ে কখনো কারো সাথে হাত পর্যন্ত মিলত না। এমনকি কারণ ছিল যে এই ব্যক্তি নিজের মুখের ওপর এতবার প্লাস্টিক সার্জারি করেছিল যেটা তিনি নিজেও জানতেন না যে কতবার তিনি তার মুখের প্লাস্টিক সার্জারি করেছিলেন। কেন এই বিশ্ব বিখ্যাত ডান্সার প্রত্যেকদিন নিজের শরীরে ২০টিরও বেশি ইনজেকশন পুশ করতেন? এমন নয় তো যে মাইকেল জ্যাকসনকে সবাই বর্তমানে জানেন সে মৃত, আসলে এখনও তিনি জীবিত অবস্থায় থেকে আমাদের বোকা বানাচ্ছেন?

আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি কি আবোল তাবোল বকছি কিন্তু বিশ্বাস করেন আজকের এই আর্টিকেলটি অত্যান্ত ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে। এবং আপনারা জানতে চলেছেন কয়েক ডর্জনেরও বেশি ডাক্তারের দেখাশোনার মধ্যে থাকা এবং কখনো না মরতে না চাওয়া মাইকেল জ্যাকসন সত্যিই কি 50 বছর বয়সে বাস্তবে মারা গেছেন?

চলুন আজকে এই অদ্ভুত আর্টিকেলটি লেখা যাক। মাইকেল জ্যাকসন এই নামটির সাথে হয়ত আপনারা সকলেই পরিচিত। মাইকেল জ্যাকসন কে ছিলেন এই প্রশ্নটি যদি একটি বাচ্চাকেও করেন তাহলে সে বাচ্চাটিও তার উত্তর সঠিকভাবে দিয়ে দিবে। পুরো পৃথিবী বাসী জানে যে মাইকেল জ্যাকসন কতটা বেশি ফেমাস ছিলেন। এ কথাটি সত্যি যে মাইকেল জ্যাকসনকে পছন্দ করা প্রতিটা লোক কেবল তার গান এবং ডান্স মুভের ওপর ফিদা ছিলনা। বরং এর সঙ্গে তার স্টাইলেওফিদা ছিল। টুপি পরার স্টাইল এবং তার মুখের ওপর ঝুলে থাকা চুল একটা সময় ধীরে ধীরে এটা একটা স্টাইলে স্টেটমেন্ট হয়ে দাঁড়ায়। আর কেউ যখন মাইকেলের গানে ডান্স পারফর্ম করে তার মতন করে টুপি পড়া কেউ ভোলে না।

এবার এমন একটা প্রশ্ন আসে যে পাবলিক প্লেসে তিনি সবসময় নিজের মুখের ওপর চুল এবং মাথার উপর টুপি পড়ে থাকেন কেন? এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, তিনি তার মুখকে একদমই পছন্দ করতেন না, কিন্তু এমনটা একদমই নয়। মাইকেল জ্যাকসনের গায়ের রং শ্যামলা হওয়ার কারণে তিনি তার মুখ পছন্দ করতেন না। বরং বয়স বাড়ার সাথে সাথে মাইকেল জ্যাকসনের চেহারাতে হঠাৎ করে পিম্পল দেখা দেয়। যদিও বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোন ছেলে কিংবা মেয়ের কাছে এটা খুবই সাধারন একটি ব্যাপার। কিন্তু মাইকেল জ্যাকসনের পিতা এ ব্যাপারে তার মুখকে নিয়ে মজা করত এবং বলতো তার মুখ এবং তার নাক বেকা এবং অসুন্দর। এই সব কথাগুলো মাইকেল জ্যাকসনকে এতটাই সিরিয়াস করে তোলে যে, মাইকেল জ্যাকসন নিজের চেহারাকে দেখতেও লজ্জা পেত।

তার কাছের কিছু মানুষ বলেন যে,তার চেহারাকে আয়নাতে দেখতেও তিনি পছন্দ করতেন না। যদিও শো করার সময় মাইকেল জ্যাকসন যখন স্টেজে উঠতেন তিনি তখন এই কথাগুলোকে ভুলে যেতেন। কিন্তু স্টেজ থেকে নামার পরেই তার চেহারার এই অসুন্দরতা তাকে ঘিরে ধরত। এমনকি তিনি পাবলিক প্লেসে কখনো কারো সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলতেন না। বহু মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায় যে, মাইকেল জ্যাকসন তার মুখ ও বর্ণনা ঠিক করার জন্য বহু রকম সার্জারী করেছেন। এবং তারপর তার গায়ের শ্যামলা রং থেকে ফর্সা করেছিলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী এটাও জানা যায় যে মাইকেল জ্যাকসনের নাকের সার্জারি সঠিকভাবে হয়নি। যে কারণে, তার নাক এবং মুখের কিছু কিছু জায়গা বেশি খারাপ এবং অসুন্দর ছিল। আর এ জন্যই তিনি সবসময় মুখে মাক্স পড়ে চলাফেরা করতেন।

আপনারা জানলে অবাক হবেন যে তিনি তার শরীরকে এতটাই ভালবাসতেন যে,তিনি কখনোই মরতে চাননি। মাইকেল জ্যাকসন তার জীবনকে ১৫০ বছরেরও বেশি বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। এ কারনে তিনি তার ঘরে সবসময় ডাক্তার রেডি রাখতেন। যারা প্রতিদিন তার শরীরকে চেকআপ করত এবং তারাই ঠিক করে দিত তিনি কি খাবেন পান করবেন সবকিছু। তিনি জীবনকে দীর্ঘ করার জন্য অক্সিজেন দেয়া চেম্বারে ঘুমাতেন। বিজ্ঞান বলে যে, যদি কোন মানুষ অক্সিজেন চেম্বারে দুই ঘন্টা সময় কাটায় তবে সেই ব্যক্তির জীবনের সময়কাল অনেক বেড়ে যায়। 

কিন্তুএবার প্রশ্ন হল এটাই যে, এমন কি হলো যার কারণে মাইকেল জ্যাকসন কেবল 50 বছর বয়সেই মারা গেলেন? আপনারা জানলে অবাক হবেন যে, যখন মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু হয়েছিল তখন তার বডিকে খুব ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল এবং পোস্টমর্ডাম রিপোর্টে জানা যায় যে, যখন তার মৃত্যু হয় তখন তার বয়স 50 বছর ছিল এবং এতদিনে তার শরীরে বিভিন্ন প্রকার রোগ বাসা বেঁধেছিল। মাইকেল জ্যাকসনের শরীরে অনেক মুখ্য হাড় গলে গিয়েছিল এবং অনেক হাড়ভাঙ্গা অবস্থায় ছিল। তার শরীরে কয়েকশো ইনজেকশনের চিহ্ন ছিল। ডাক্তাররা আরো বলেন যে তার শরীরে এবং মুখে সার্জারি করেছিল যে সেটা ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিন ইনজেকশন নিতে হতো। শুধু তাই নয় তার এই সার্জারির ফলে অনেক ব্যাথাও তাকে শর্যকরতে হতো যার ফলে তাকে অনেক পেইনকিলার নিতে হতো। আর এই অতিরিক্ত পেইনকিলার খাওয়ার ফলে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু হয়।

এবার এটা প্রশ্ন ওঠে যে কয়েক ডর্জন ডাক্তার থাকা সত্বেও  সেখানে মাইকেল জ্যাকসন এতো পেইন কিলার এর ওভারডোজ পেলো কিভাবে?

এই কারণে মাইকেল জ্যাকসনের মুখ্য ডাক্তার Connra Murray ওপর গাফিলতির কেস হয়। এবং কোর্টে কেস চলাকালীন জানা যায় যে তিনি পেইন কিলার এর বেশিডজ মাইকেল জ্যাকসনকে দিয়েছিলেন। যার কারণে পৃথিবীর বিখ্যাত সিঙ্গার এবং ব্রেক ডান্সার এর মৃত্যু হয়।

2011 সালে এই ডাক্তারের চার বছরের জেল হয় কিন্তু ভালো ব্যবহারের ফলে তাকে দুই বছর পর জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আপনারা জানলে আরো অবাক হবেন যে, মাইকেল জ্যাকসন তার ডাক্তারদের জন্য এত বেশি টাকা খরচ করতেন যে তাকে ব্যাংক থেকে 500 মিলিয়ন ডলার ধার নিতে হয়েছিল। অন্যদিকে মাইকেল জ্যাকসন তার অনেকগুলোই লাইফইন্সুরেন্স করে নিয়েছিল আর যদি কখনো হঠাৎ করে তিনি মারা যান তাহলে তার পরিবার এত বেশি টাকা পেত যে ভাবনারও বাইরে।

অনেক বড় বড় মানুষ বলেছেন যে তার ব্যাংক ঋণ এবং লাইফইন্সুরেন্স পাওয়ার জন্য তিনি তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে ছিলেন।

এবার আসি দ্বিতীয় কন্সপিরেসি থিওরিতে। তার বহুপরিচিত এবং বহু ফেমাস ডান্সিং মুভটি আপনারা হয়তো সকলেই দেখেছেন। আপনারা মাইকেল জ্যাকসনের এই বিশেষ ডান্স স্টেপ টি দেখে নিশ্চয় অবাকও হয়েছেন। না আমি মুনত্তাকের কথা বলছি না। আমি বলছি তিনি 45 ডিগ্রিরও বেশি নিচে পায়ের সাহায্যে ঝুকেঁ যেতেন। যদিও মাইকেল জ্যাকসনের  এই     ডান্সস্টেপটি কে নিয়ে পৃথিবী জুড়ে বহুলোক বলেন যে তিনি এটি করার জন্য এক বিশেষ ধরনের জুতা ব্যবহার করতেন। স্টেজের ওপর আটকে থাকা পেরেকের ওপর গিয়ে আটকে যেত যার ফলে মাইকেল জ্যাকসন এই ডান্স স্টেপটি খুব সহজে করতে পারত।  তবে এখন অব্দি কেউ এই কথাটিকে প্রমাণিত করতে পারেনি। ফলে এটি পুরাই গুজব বলে ধরা হয়। মাইকেল জ্যাকসন তার এই ডান্স স্টেপ করার জন্য এত বেশি রিয়াসেল করত যে বলার বাহিরে। 

মাইকেল জ্যাকসনের এই ফেমাস ডান্সস্টেপটিকে  নিজের নামে প্যাটেন করে নিয়েছিলো। যার কারণে ডান্স ফর্ম টি বড় কোনো স্টেজে কেও করে দেখাইনা। যদি কেউ এই ডান্স ফর্ম টি করে তাহলে প্যাটনের নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিভিন্ন আইন এর সম্মুখীন হতে হবে।

এবার আসি সব থেকে বড় কন্সপিরেন্সি থিওরি নিয়ে। অনেকে মনে করেন মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পেছনে রয়েছে একটি বড় কোম্পানির সুগঠিত প্ল্যান। হ্যাঁ মাইকেল জ্যাকসন নিজের ক্যারিয়ার চলাকালীন একটি বড় টেক জায়েন্ট এবং মিডিয়া জায়েন্ট কোম্পানিকে পাবলিকলি ক্রিটিসাইজ করত।

দেখা গেছে অতীতেও যারা সনি কোম্পানিকে ক্রিটিসাইজ করেছে তাদেরও রহস্যময় ভাবে  মৃত্যু হয়েছে। এবং মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুটাও রহস্যজনক ভাবেই হয়েছিল। তাই অনেকেই মনে করেন তাঁর মৃত্যুর পেছনে সনি কোম্পানির হাত রয়েছে। তবে অদ্ভুতদশ এটাকে কোনভাবেই সত্য বলে চালাচ্ছে না।

তো এই ছিল আমাদের মাইকেল জ্যাকসন সম্পর্কে অনেকগুলো অজানা তথ্য। আশা করি আমার এই আর্টিকেলটি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। ধন্যবাদ।

Comments

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ

I Am Student