ইসলামের  যাকাতের মাসারিফ ও এর বৈশিষ্ট্য, যাকাতের গুরুত্ব এবং হজ  নিয়ে আলোচনা

Websoriful ওয়েবসাইটের সবাইকে জানাই সালাম।  আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। websoriful থেকেই ইনকাম করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত আজকে আমি ইসলামের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। এখন শুরু করা যাক-----

প্রথমে বলব যাকাতের মাসারিফ নিয়ে

যাকাতের মাসারিফ ৮ টি। এগুলো হলো-

১/অভাবগ্রস্থ বা ফকির ২/সম্বলহীন মিসকিন ৩/যাকাতের জন্য নিয়োজিত কর্মচারি< ৪/মন জয় করার উদেশ্য ৫/মুক্তিকামি দাস ৬/ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ৭/আল্লাহর পথে ৮/ অসহায় বা প্রবাসী প্রথিক

এগুলোর বিবরণ ----

১/ অভাবগ্রস্থ বা ফকিরঃ- ফকিরকে  বাংলায় গরিব বলা হয়। যাদের কিছু না কিছু সম্পদ আছে কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট না। যাদের জীবনধারণ এর জন্য অপরের সাহায্য সহযোগিতার উপর নির্ভর করতে হয় এমন ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যায়। জীবিকে অর্জনে অক্ষম ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে যাকাতের খাত থেকে সাহায্য করা যায়।

২/ সম্বলহীন বা মিসকিনঃ- যারা নিজস্ব পেটের অন্ন যোগাড় করতে পারে না এবং সম্মানের ভয়ে কারো নিকট দ্বারস্থ হয় না তাদেরকে মিসকিন বলে। মিসকিনকে যাকাত দেওয়া যায়।

৩/ যাকাতের জন্য নিয়োজিত কর্মচারিঃ- যারা যাকাত আদায় করে , রক্ষণাবেক্ষণ করে, বণ্টন করে তাদের যাকাতের খাত থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে।

৪/মন জয় করার উদেশ্য ঃ-সদ্য মুসলিম হওয়ার ব্যক্তির সমস্যা দূর করার জন্য তাদের  যাকাত দেওয়া যাবে।

৫/মুক্তিকামি দাসঃ-যে দাস তার মনিবের সাথে নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে মুক্তি পাওয়ার চুক্তি করেছে এমন দাসকে মুক্তির মূল্য পরিশোধ করার জন্য যাকাত প্রদান করা যাবে।

৬/ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিঃ-যে ব্যক্তি পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম তাকে ঋন পরিশোধের জন্য যাকাতের খাত থেকে অর্থ প্রদান করতে পারবেন।

৭/আল্লাহর পথেঃ-আরবি পরিভাষা হলো ফি সাবিলিল্লাহ।  এর অন্য অর্থ জিহাদ।যেকোনো খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকাত সংগ্রামই হলো জিহাদ।  এরূপ ইসলামে খিদমতে নিয়োজিত বাক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে।

৮/অসহায় প্রবাসি পথিকঃ-কোনো ব্যক্তি সফরে গিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়তে তাদের যাকাতের অর্থ প্রদান করা যাবে।

--️যাকাতের  গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করব--

যাকাতের গুরুত্ব হলো অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা।কেউ সম্পদের পাহাড় গড়বে,  সুউচ্চ ইমারতে বসবাস করবে,বিলাসবহুল জীবনযাপন করবে আর কেউ অনাহারে দিন কাটাবে এমন বিধান ইসমান  মানবে না। কেউ খাদ্য,  বাসস্থান, শিক্ষা ইত্যাদি চাহিদা পূরণ করতে পারে না এমন বিধান শান্তি ও সামে্যর ধর্ম ইসলাম কিছুতেই গ্রহণ করবে না। রাসূলিল্লাহ (সঃ) বলেন আল্লাহ তায়ালা এর লোকের উপর সাদাকা ফরজ করেছেন  নেওয়া হবে ধনীদের থেকে বিলিয়ে দেওয়া হবে গরিবের মধ্যে। সাধারণত মানুষের অর্থের প্রতি লোভ থাকে।সে কৃপণ স্বভাব এর হয়, নিজের কষ্টে উপার্জিত অর্থ  নিস্বার্থভাবে কাউকে দিতে চায় না।তাই আল্লাহ তায়ালা ধনিদের লোভ দূর করার জন্য তাদের উপর যাকাত ফরজ করে দিয়েছেন। সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তায়ালা। মানুষের নিকট তা আমানতস্বরূপ। মানুষ তার শ্রম ও মেধায় সম্পদ অর্জন করবে এবং যা প্রয়োজন তা খরচ করব। সম্পদ জমা রেখে কেবল নিজের ভোগ বিলাসের জন্য খরচ করা ইসলাম সমর্থন করে না। ধনিদের সম্পদে দারিদ্র্যের অধিকার আছে তা অবশ্যই অাদায় করতে হবে। গরিবের অধিকার আদায় না করলে সম্পদ পবিত্র বা হালাল হবে।

হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুলাপায়ে রশিদীনের যুগে সরকারি ব্যাবস্থাপনায় যাকাত দেওয়া হতো।নিসাবের নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের মালিকেরা যাকাত দিতে বাধ্য থাকিত। যারা যাকাত পাওয়ার হকদার তারা যাকাতের অর্থ পেয়ে উপকৃত হতো।

কুরআন হাদিস এর বর্ণণামতে যাকাত আদায় ও বিতরণ করা মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। মুসলিম সম্প্রদায় ইসলাম এর ব্যাবস্থাপনায় যাকাত আদায় করলে ধনী দারিদ্র্যের  পার্থক্য কমে যায়৷

অসহায় গরিব মানুষকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করা ধনী মুসলিমদের দায়িত্ব।যাকাত প্রদান করা ধনীদের নৈতিক দায়িত্ব। -----------------------------------------------------------------

--এবার হজ নিয়ে আলোচনা করা যাক--

হজ এর অর্থ সংকল্প করা,ইচ্ছা করা।নির্দিষ্ট দিনসমূহ, নির্ধারিত পদ্ধতিতে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লোক এর জন্য পবিএ কাবাঘর ও নির্ধারিত স্থানসমূহে বিশেষ কার্যাদি সম্পাদন করাই হলো হজ। হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যিলহজ মাসের ৮ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত মক্কা, মদিনা,মিনা,ও মুযদালিফায় আল্লাহ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ অনুযায়ী বিশেষ কাজ সম্পন্ন করা হজের আওতাভুক্ত। প্রত্যেক মুসলিম নর নারির উপর জীবনে একবার হজ আদায় করা ফরজ।এরপর র‍্যতআার হজ আদায় করবে তা নফল ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। মহিলা হাজি হজ করতে গেলে অবশ্যই একজন সঙ্গী থাকতে হবে। সঙ্গি হবেন স্বামী বা এমন আত্মীয় যার সঙ্গে বিবাহ সম্পর্ক হারাম। ভাই, বাবা, ছেলে,চাচা,মামা ইত্যাদি। তাদের খরচ অবশ্যই মহিলা হাজিকেই বহন করতে হবে।

         আল্লাহ তায়ালা বলেন;- মানুষের মধ্যে যার যেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদেশ্য এই গৃহে হজ করা অবশ্যই কর্তব্য।

Comments

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ