খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশ্রিত করণ এর কারণ, ও এর প্রতিকার।

খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো এবং তার প্রতিকার। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ঢাকায় 74% উদ্দেশ্যে 50% খাদ্যের ভেজাল মিশ্রিত। 

এমনকি মিনারেল ওয়াটার নামে বোতলবন্দী বিশুদ্ধ পানিতে ও ভেজাল। উদ্বেগের বিষয় হলো এসব নকল ও ভেজাল খাদ্য সামগ্রী বিশুদ্ধ এবং খাঁটি লেবেল লাগিয়ে অনায়াসে বিক্রি হচ্ছে। খাঁটি ঘি খাঁটি মধু খাঁটি দুধ খাঁটি তেলের প্রচার এবং সরবরাহের অভাব নেই। আসলে এসব খাটি লেভেলের আড়ালে আসল জিনিসটাই বোধহয় হারিয়ে গেছে। নকল ভেজালের দৌরাত্ম্যে কথায় কথায় কথায় পরিণত হয়েছে মোটেও খাঁটি নয়।

১. ভেজালের প্রভাব এবং বর্তমান চিত্রঃ

 দেশে ভেজালের দৌরাত্ম্যের কথা আমরা সবাই কম বেশি জানি। কিন্তু ভয়ের কথা যে ভেজালের আওতার মধ্যে প্রতিনিয়ত নতুন আইটেম যুক্ত হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত বাজার থেকে কিনে যেসব খাদ্যদ্রব্য খেয়ে থাকে এদের মধ্যে কত শতাংশ ভেজাল তা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের এক সূত্র থেকে জানা গেছে রাজধানীতে বিকৃত খাদ্যসামগ্রীর শতকরা 70 ভাগ ভেজালযুক্ত। অন্যদিকে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথের সূত্র মতে দেশের 50 শতাংশ খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মিশ্রিত করে বিক্রি করা হয়। 90 থেকে 2002 সাল পর্যন্ত 22 হাজার 971 বিশ্লেষণের পরীক্ষা করে তারা দেখেছে যে ওইসব খাদ্যদ্রব্যের প্রায় 50% ভেজাল। অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ ক্যাব এর হিসেবেও বাজারে বিক্রয় হচ্ছে এমন খাদ্য দ্রব্যের পচা 50%। ভেজাল বর্তমানে ভেজালের পরিমাণ আরো বেড়ে চলেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। 

খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানোর কারণঃ

 ১.এর প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের লোভে খাদ্যশস্য এ বহির্জাত পদার্থ সরাসরি যোগ করা হয় যেমন বৃদ্ধি এবং কোষের সঙ্গে কীটপতঙ্গ আক্রান্ত বৃহত্তম ইত্যাদি।

২.নৈতিক শিক্ষা এবং মূল্যবোধের অভাবে ব্যবসায়ীরা লোভে পড়ে নানারকম দুর্নীতি এবং অসৎ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে জলাশয় মজুদ খাদ্যশস্যের ওজন বাড়ানোর জন্য কেউ কেউ তাতে পানি ছিটায় জিয়ার সঙ্গে পশুর চর্বি দিয়ে ভেজাল করা হয় নারিকেল তেলের সঙ্গে বাদাম তেল মিশিয়ে তৈরি করা হয়।

৩.নিজেদের অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা এবং রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রবণতা থেকে খাদ্যের উপাদান মিশিয়ে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা করছে,  অথবা দুধে পানি মিশিয়ে ভেজাল দুধ বাজারজাত করা হয় আবার মহিষের দুধ পানি দিয়ে পাতলা করে সহজেই চালনা করা যায় এবং খুবি সহজ কাঠের গুঁড়া এবং শুকনো পাতার গুড়া দিয়ে চাই ভেজাল দেয়া হয়। 

সরকারের কিছু দুর্বলতার কারণে এবং কঠিন দন্ডবিধি প্রাপ্ত কোন আইন কার্যকর না থাকায় একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিন্দনীয় এ কাজের সঙ্গে অবলীলায় জড়িয়ে পড়ছে ফলে সাধারণ পণ্যের বাজার এর প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে লঙ্কা হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে উচ্চতর বাড়ানো হয় কোমল পানীয় তৈরি সিরাপ এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন নিষিদ্ধ দ্রব্য ব্যবহার করে নকল রস তৈরি করা হয়ে থাকে। বাজারে যে পানির ব্যবসা চলছে তাতে গুণ এবং মানের নিশ্চয়তা অতি সামান্য এবং অনেক ক্ষেত্রে নেই বললেই চলে।

তবে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানোর যে কয়টি কারণে উদঘাটন করা যাক না কেন তার পেছনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের অভিপ্রায়। অসচেতনভাবে খাদ্যের ভেজাল দেয় তা অন্যকে প্রতারণা করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই জেনেশুনে এবং সচেতন ভাবেই গুরুত্ব ও সামাজিক সামাজিক এবং কে অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয় অপকর্মটি একশ্রেণীর ব্যবসায়ী এবং বিকৃত করে থাকে এতে কোন সন্দেহ নেই।

 খাদ্য রোধের উপায়ঃ

সংবিধানের 18 হয়েছে জনগণের পুষ্টি স্তর উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য হইবে। যেখানে ভেজাল এবং নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য পুরনো সেখানে জনগণের পুষ্টি স্তর উন্নয়ন এবং যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করতে হলে অবশ্যই সর্বজ্ঞ ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য এবং এসবের বিরুদ্ধে হতে হবে। জনগণকেও এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে।

 খাদ্যে ভেজাল মেশানো এবং তার প্রতিকার সম্পর্কে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেয়া যেতে পারেঃ

বাংলাদেশের বিশুদ্ধ খাদ্য বিল 2005 নামে একটি আইন করা হয়েছে। আইনটির যথাযথ প্রয়োগ এবং সবসময় কার্যকর রাখতে হবে এ আইনে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ভেজাল বিরোধী আইন কে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে একই সঙ্গে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করার জন্য প্রত্যেক জেলায় এবং বড় বড় বাজার গুলোতে পরীক্ষাগারে স্থাপন করতে হবে মুক্ত হতে হবে ভেজাল বিরোধী প্রমাণ আদালত এবং বাজার তদারকির জন্য ব্যবস্থা রাখতে হবে। সর্বোপরি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের প্যাকেটের গায়ে কোম্পানির লাইসেন্স নম্বর ট্রেডমার্ক পণ্যের উৎপাদন কৌশল বা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের ভুল বুঝতে পারে যেন,এ ব্যাপারে আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। সবাইকে সচেতন ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

 প্রচারমাধ্যমে খাদ্যের ভেজালের নানারকম প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারনা দিতে হবে।প্রয়োজনে তাকে লজ্জা দিতে হবে এবং ব্যবসা থেকে বিতাড়িত করতে হবে ব্যবসায়ীদের খাদ্যের ভেজালের ভয়াবহ সম্পর্কে জানিয়ে তাদের মতে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে

উল্লেখিত পদক্ষেপসমূহের আলোকে সরকারের এবং আইন প্রয়োগকারী কে সততা অর্থ থাকলে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল এর পরিমাণ কমবে। 

Comments

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ