রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা মাসায়েল

নাকে ঔষধ বা ড্রপ ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙ্গে যাবে? নাকে ঔষধ, ড্রপ,ও পানি ইত্যাদি দিয়ে ভেতরে টেনে নিলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

চোখে ঔষধ বা ড্রপ ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

চোখে ঔষধ, ড্রপ সুরমা ও মলম ইত্যাদি  ব্যবহার করলে  রোজা ভঙ্গ হবেনা। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় উপলব্ধ হয়।

 কানে   ওষুধ বা ড্রপ ব্যবাহার করলে কি রোজা ভেঙ্গে  যাবে?

১.কানে ড্রপ, ঔষধ, তৈল ও পানি ইত্যাদি দিলে

রোজা ভঙ হবেনা ।

হেদায়া, ফতহুল কদির, ফাতাওয়া আলাগিরি

ফাতাওয়া শামি, আল-বাহরুর রা"য়েক ইত্যাদি

ফতওয়া গ্রহণযোগ্য কিতাব সমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত আছে যে, কানে ওষুধ বা তৈল ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে, অথচ সমকালীন মুফতিয়ানে কেরামের ফতোয়া হল রোজা ভঙ্গ হবেনা। এই জাতীয়  রোজার আরো বেশ কিছু  মাসআালায় সমকালীন মুফতিয়ানে কেরামের ফতোয়া পূর্বেকার ফুকাহায়ে কেরামের ফতোয়ার  বিপরীত পরিলক্ষিত হয়। এখন প্রশ্ন হল এরুপ

ভিন্নতা কেন? এর উওর খুঁজার জন্যে এবং রোজার অন্যান্য আধুনিক মাসায়েল সমুহ সহেজ বুঝার জন্যে ভূমিকা স্বরুপ কিছু কথা পেশ করাকে অতিবও জরুরি মনে করছি। তাই আমি

মারকাযুল বুহুস আল ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা পরিচলক,  ও প্রধান মুফতি এবং জামি"য়া ইসলামিয়া দারুল ঢাকা (মসজিদুল আকবর) এর প্রিন্সিপাল, শাইখুল হাদিস ও প্রধান মুফতি

আল্লামা মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন দাঃবাঃ  এর তথ্যাবধানে রচিত ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা এর রোজা অধ্যায়ে লিখিত ভূমিকাটি

বারংবার অধ্যায়ন করে পাশাপাশি ফতোয়া র অন্যান্য গ্রহনযোগ্য কিতাব সমূহ মুরা"জাঅা করে তারই লেখিত ভূমিকাটি কিছুটা সংযোজন বিয়োজন করে পাঠাকের সমিপে পেশ করছি। যদি তা সঠিক হয় তবে তা আল্লার পরম করুনা ও দয়া বৈকিছু নয়? আর কিছু ত্রুটি - বিচ্ছুতি হলে তা আমারই দূর্বলতার বহিঃপ্রকাশ মাএ। এতে কোনো ত্রুটি-বিচ্ছুতি পরিলক্ষিত হলে আমাকে জানানোর জন্য আহলে ইলমের প্রতি বিনিত আবেদন রইলো। প্রথমে আমি পাঠক সমিপে ভুমিকাটি পেশ তারপর আমি ধারাবাহিক ভাবে রোজার আধুনিক মাসায়েল সমুহ পেশ করব

আল্লাহ সহায়হোন। وما توفيقي الا بالله

১. কখন রোজা ভঙ্গ হবে

ফোকাহায়ে কেরাম একমত পোষন করেন,

পাঁচটি বস্তু একসাথে পাওয়া গেলেই রোজা ভঙ্গ হবে‌। যথা ১.মানব দেহের অভ্যন্তরে রোজা ভঙ্গকারি গ্রহনযোগ্য বস্তু প্রবেশ করা অর্থাৎ দেহ বিশিষ্ট বস্তু প্রবেশ করা যেমন কোনো খাদ্য বা পানীয় সুতরাং বাতাস ঠান্ডা বা গরম ইত‍্যাদি।

২. রোজা ভঙ্গকারি বস্তু মানবদেহের ভিতরের গ্রহণযোগ্য খালি স্থানে প্রবেশ করা ।

বর্তমান যুগের ডাক্তারদের গবেষণার আলোকে সমকালীন মুফতিয়ানে কেরামের মতামত অনুযায়ী গ্রহনযোগ্য খালিস্থান তিনটি ১. খাদ্যনালী ২. পাকস্থলী ৩.নাড়িভুরিঁ সুতরাং নারী - পুরুষের মূত্রথলি, নারীর বাচ্চাদানি, দেমাগ,তথা মাথার অভ্যন্তরের খালি স্হান ও ও কর্ণকুহরের গহবরের খালিস্থান ইত‍্যাদিতে রোজা ভঙ্গকরি বস্তু প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হবেনা।

৩. রোজা ভঙ্গকরি বস্তু দেহের ভেতরে গ্রহণযোগ্য রাস্তা বা ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করা।

সকল ফুকাহায়ে কেরাম একমত যে গ্রহণযোগ্য রাস্তা ৩টি ১.মুখ ২.নাক.৩.মলদার,তবে ক্ষেত্রবিশেষ এর সাথে আরো একটি যোগ হবে, আর তা হলো পেটের ক্ষত' যদি তা পাকস্থলী কিংবা নাড়িভুঁড়ি পর্যন্ত পৌঁছে। বর্তমান যুগের ডাক্তারদের গবেষণার আলোকে সমকালীন মুফতিয়ানে কেরাম এর মতে কান,যৌনীদ্বার , মূত্রনালি , মাথার ক্ষত ও মাথার লোম কূপ দিয়ে রোজা ভঙ্গকরি বস্তু প্রবেশ করলে,রোজা ভঙ্গ হবেনা।

কারণ পূর্ব যুগের ডাক্তারদের ধারণা ছিল, যে

কোনো পাকস্থলীর সাথে বাচ্চাদানির যোগাযোগের রাস্তা রয়েছে তাই তত্কালীন ফুকহায়ে কেরাম এর বক্তব্য ছিল যৌনিদ্বার দিয়ে কোন বস্তু প্রবেশ করলে, রোজা ভেঙ্গে যাবে কারন তা বাচ্চাদানি হয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছে যাবে। এমনিভাবে তাদের ধারণা ছিল পাকস্থলীর সাথে মূত্রথলির সরাসরি যোগাযোগ আছে,তাই ফুকাহাদের বক্তব্য ছিল রোজা ভঙ্গকরি বস্তু মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে কারন তা মূত্রথলি হয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়

এমনিভাবে তাদের ধারণা ছিল দেমাগ তথা  মস্তিষ্ক থেকে খাদ্যনালীতে পৌঁছার এবং কান থেকে খাদ্যনালীতে পৌঁছার রাস্তা রয়েছে রাস্তা রয়েছে।

তাই ফুকাহাদের বক্তব্য ছিল মাথার ক্ষত'কিংবা কানে রোজা ভঙ্গকরি বস্তু প্রবেশ করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে ।কারন তা মস্তিষ্ক কিংবা কানের ছিদ্র দিয়ে খাদ্যনালীতে পৌঁছে পাকস্থলীতে চলে যায়যায়।

কিন্তু বর্তমান ডাক্তারদের মতামত হল পাকস্থলীর সাথে বাচ্চাদানির এবং মূত্রথলির কোনো যোগাযোগ রাস্তা নেই। এমনিভাবে খাদ্যনালীর সাথে মস্তিষ্কের কোনো যোগাযোগ নেই, যদি মস্তিষ্কের নিচের হাড় ভাঙ্গা না থাক।

Comments
Kamrul - মে ২, ২০২২, ৭:১৮ AM - Add Reply

ধন্যবাদ ভাইয়া

You must be logged in to post a comment.

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ