পরীশ্রম করে জীবনে সফলতার পাওয়ার গল্প

আমার গ্ৰামের এক মেয়ে । যার নাম  মিষ্টি । ছোটো বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতো সে বড় অফিসার হবে। খুব গরীব ঘরের একটা মিষ্টি মেয়ে । নামটা যেমন মিষ্টি দেখতে ও খুব মিষ্টি । ক্লাস  নাইন এ পড়ে মেয়েটি । বাবা নেয় , তার জন্মের কয়েক বছর পরেই তার বাবা মারা যান।  শুরু মা  আছে । বাবা মায়ের অনেক অনেক আদরের ছিল। তাই তার বাবা নাম রেখেছিলেন মিষ্টি  ।তার বাবা মারা যাওয়ার পরে অনেক সংগ্ৰাম করে তাকে বড়ো করছেন ।  তার মা  অন্যজনের বাড়িতে কাজ করে তাকে পড়াশোনা করাচ্ছে। গ্ৰামের সকলে তাকে অনেক ভালো বাসে । স্কুলের ও অনেকে তাকে ভালোবেসে আবার অনেক কে ভালোবাসেন না । ক্লাসের সহপাঠীরা অনেক এ তাকে অনেক কথা শুনাতো তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতো বলে । ক্লাসের স্যার ও তাকে অনেক ভালো বাসতো । লেখাপড়ায় সে অনেক ভালো ।

খুব কষ্ট করে  এস‌এসসি পাস করে সে । তারপর আস্তে আস্তে পড়াশোনা খরচ বাড়তে লাগলো । অন্যর বাড়িতে কাজ করে যে টাকা তার মা জমিয়েছিলো সেটা তার একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হতে লাগলো। তারপর তাদের জীবনে নেমে এলো ভয়াবহ কালো আঁধার । মিষ্টির পড়াশোনা খরচ চালানো তার মায়ের জন্য একেবারে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্ৰামের অনেকের কাছ থেকে সাহায্য চাইলে কেউ একটু সাহায্য করতো আর অনেকে তাকে বলতো - মে এতো পড়াশোনা করে কি লাভ । তার চেয়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দাও ।গ্ৰামের লোকের এই রকম কথা শুনে মিষ্টি অনেক টা কষ্ট পেল , আঘাত পেল, কষ্টে তার বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে । সে অনেক কাঁদতে লাগলো । আর তার মাকে বলছে আমার বাবা যদি বেঁচে থাকতো তাহলে আমাদের এতো কষ্ট থাকতো না । বাবা তাকে ছোট বেলা থেকে অনেক ভালবাসতো । তার বাবার ও স্বপ্নছিল তার মেয়ে অনেক বড় অফিসার হবে। কিন্তু অফিসার হ‌ওয়া তো আর মুখের কথা নয় । এই জন্য তাকে এইরকম আরো অনেক সংগ্রাম করতে হবে । মিষ্টির মা  গ্ৰামের লোকের কথা কে তাচ্ছিল্য করে মেয়েকে আরো ভালো করে পড়াশোনা করতে বললেন । মিষ্টি অনেক কষ্ট করে এইস‌এসসি পরীক্ষা দিলো । তারপর সে ইউনিভার্সিটির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকলো। তিন মাস কেটে গেল কিন্তু তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে সেটা যেন কিছুতেই কাটছিলো না ।

এইদিকে আবার গ্ৰামের সকলে তাদের মা মেয়েকে নিয়ে অনেক কথা বলতে লাগলো। অবশেষে মিষ্টি তার এইস‌এসসি পরীক্ষার রেজাল্ট পেল , আপনারা তার রেজাল্ট জানলে অনেক অবাক হবেন । অবাক তো হবারি কথা । সে পরী‍ক্ষায় তার জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছে অর্থাৎ সে গোল্ডেন প্লাস পেয়ে পাস করেছে । তার এই ফলাফল দেখে গ্ৰামের অনেকেই অবাক হয়েছে ‌‌তার পর গ্ৰামের অনেকেই তার এতো ভালো ফলাফল দেখে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে । 

তার কয়েক মাস পর মিষ্টির ইউনিভার্সিটি পরীক্ষা । অনেক অভাবী সংসারে থেকে ও সে ইউনিভার্সিটি তে পড়াশোনা করার স্বপ্ন দেখেছে ।  অনেক কষ্টের বিনিময়ে সে ইউনিভার্সিটি তে চান্জ পেল । তারপর থেকে তাদের কষ্ট কিছুটা কমতে  লাগলো । মিষ্টির স্কলারশিপের টাকা দিয়ে সে পড়াশোনা করতে লাগলো । তার স্বপ্ন সত্যি করার জন্য সে  এই রকম লড়াই করার জন্য সবসময় প্রস্তুত ছিল ।

ইউনিভার্সিটি পড়াশোনা করার সময় মিষ্টি কে একটা ছেলে পছন্দ করতো । কিন্তু তার লক্ষ্য বড় বড়ো অফিসার হবে । তাই সে এগুলো বিষয়ে সে তেমন একটা পাত্তা দিত না ।  ইউনিভার্সিটি পড়াশোনা কালীন অনেকেই তাকে পছন্দ করতো । কিন্তু মিষ্টি তাদের কাউকে কখনো কিছুই  বলতো না । এমন সময় তার মা  খুব অসুস্থ হলেন । মিষ্টির জীবনে আবারো একটা ভয়াবহ সময় এসে হাজির হলো । এমন সময় কি করবে সে কিছুতেই বুঝতে পারছিল না ‌। তার মায়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। তাদের এতো অভাবের সংসারে এতো টাকা কোথায় থেকে আসবে মিষ্টি সেটা ভেবেই পাচ্ছিল না । বাবাকে হারিয়ে সে অনেক কষ্ট পেয়েছিল সে কষ্ট আর দ্বিতীয় বার সে কিছুতেই মেনে নিতে পারবে না । এমন সময় গ্ৰামের অনেকেই মিষ্টির এই কষ্ট দেখে তার পাশে এসে দাঁড়াল। কিন্তু এতো গুলো টাকা সে কোথায় থেকে পাবে কেউ কখনোই এতো টাকা দিয়ে সাহায্য করবে না অন্যদিকে সে তার মাকে ও হারাতে চায় না । তাই সে গ্ৰামের লোকের কাছ থেকে ঋন নিয়ে তার মায়ের চিকিৎসা করলো । 

এখন তার মা অনেকটায় সুস্থ। তারপর সে আবারো পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে লাগলো । এতো কিছুর পর ও যেনো তার স্বপ্ন পূরণ করা থেকে সে একটু পিছিয়ে আসেনি । অবশেষে অনেক সংগ্রাম করার পর সে তার লক্ষ্যে পৌছোলো । তার স্বপ্ন পূরণ হলো । সে যে আজ কতো খুশি তা আমি বলে বুঝাতে পারবো না ‌‌। তার মা তো খুশিতে আত্মহারা। গ্ৰামের সকলেই অনেক খুশি । অবশেষে তার দুঃখের জীবন ঘুচলো ।তার বাবা বেঁচে থাকলে তিনি ও অনেক খুশি হতেন । মিষ্টি আজ একজন বড়ো ইনচার্জ অফিসার।  দিন শেষে এটাই সত্যি জীবনে পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই । 

ধনী গরীব সকলেই মানুষ।  আমাদের সকলের উচিত গরীবদের অবহেলা না করা । আমাদের উচিত গরীবদের অসম্মান না। গরীবরা ও মানুষ তাই তাদের সকলকে ভালোবাসতে হবে।গরীব বলে যে তাদের কে ঘৃণা করতে হবে এটা কখনো করা উচিত নয়।

জীবন মানে  সমস্যা  থাকবেই আর কষ্টের পর সফলতা আসবেই । বৃষ্টি ছাড়া যেমন রামধনু দেখা যায় না তেমনি ব্যর্থতা ছাড়া ও সফলতা পাওয়া যায় না ।  কর্ম জীবনে সফল হ‌ওয়া দরকার । ব্যর্থতা থেকেই জীবনে সফল হ‌ওয়া সম্ভব। 

 কবি একটা কথা বলেছিলেন ,,,,

যদি তুমি সূর্যের মতো উজ্জ্বল হতে চাও

তাহলে আগে সূর্যের মতো পুড়তে শেখো ।

বন্ধুরা আমার এই গল্পটি  কেমন হয়েছে অবশ্য‌ই জানাবেন  ।

Comments

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ

Student