মাদকদ্রব্য কি? এবং এর ক্ষতিকারক দিক

        মাদকাসক্তি কি? 

মাদকাসক্তি বলতে মাদকের প্রতি আসক্তি বা নেশা কে বোঝায়। এই নেশায় আসক্ত হলে সহজে কেউ পরিত্রাণ পায় না। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরণের মাদক দ্রব্য আছে। যেমনঃঃ, বিড়ি সিগারেট, তামাক, চুরুট, মদ, গাজা, আফিম, মারিযুয়ানা, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা ইত্যাদি। 

 মাদকদ্রব্য গ্রহণের মাধ্যমঃ

মাদকসেবীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে মাদকদ্রব্য সেবন করে থাকে। 

১.ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো। 

২.ট্যাবলেট। 

৩.পাউডার বা সিরাপ হিসেবে খাওয়া। 

৪.পানীয় হিসেবে পান করা। 

৫.ধূমপানের মাধ্যমে গ্রহণ করা। 

  মাদক সেবনের ক্ষতিকর     দিকঃ

১.শারীরিক সমস্যাঃ

এই আসক্তি মানুষ কে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে এর থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রথমদিকে কম মাত্রায় মাদক সেবন করলেও ধীরে ধীরে কম মাত্রা আর  কাজ করে না। এ জন্যে ডোজের পরিমাণ বাড়াতে হয়। ফলে শুরু হতে থাকে শারীরিক নানান সমস্যা। এক সময় দেখা যায় যৌন ক্ষমতা কমতে কমতে একেবারে লোক পেয়ে যায়। সন্তান জন্মদানে অক্ষম করে তোলে এই প্রাণঘাতী মাদক। 

২.মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণঃ

মাদকদ্রব্য এমন কিছু ক্ষতিকারক উপাদান রয়েছে যা একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্ক কে একেবারে অকেজো করে দিতে পারে। এটি সেবনের ফলে মস্তিষ্কের কিছু ছোট ছোট রক্তনালী মারাত্মকভাবে  ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

৩.কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ঃ

মাদকদ্রব্য সেবনে সেবনকারীর কিডন একে বারে বিফল হয়ে যেতে পারে। এই উত্তেজক মাদককে গ্রহণ করলে কিডনি বেশ উত্তপ্ত হয়ে যায়।শরীরের ভেতরের তাপমাত্রার হেরফের এর কারনে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। 

৪. ফুসফুস এর সমস্যাঃ

মাদক সেবনের ফলে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে। বিশেষ করে যেসব মাদকদ্রব্য ধোঁয়ার মাধ্যমে সেবন করা হয় সেগুলো ফুসফুস ছিদ্র করে দিতে পারে। এছাড়া শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া,বুক ধরফর করার মতোও সমস্যা হতে পারে।

৫.মানসিক সমস্যাঃ

আত্মহত্যার প্রবনতা দেখা দেয়। তুচ্ছ কোনো কারণে কিংবা কোনো কারন ছাড়াই আত্মহত্যা করার ইচ্ছা জাগে মনের ভেতর। অদ্ভুত একটা ঘোড়ের মধ্যে চলে যায় মাদকদ্রব্য সেবনকারী।

৬.আচরণের পরিবর্তনঃ

মাদকাসক্ত ব্যাক্তির আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। যেমনঃ মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। কোনো কিছুই তার সয্য হয় না।দৈনন্দিন ব্যবহারের মধ্যে অমুল পরিবর্তন ঘটে। অল্পতেই রেগে যাওয়া, চুরি করা, মিথ্যা বলা, এমনকি নানান রকম হিংস্র আচরণ করতে পিছিয়ে থাকেন না মাদক সেবনকারী ব্যাক্তি। 

৭.স্মৃতিশক্তি লোপ পায়ঃ

মাদকদব্য সেবন করলে স্মরনশক্তি কমে যায়। কোনো কাজ এ মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়।

৮.রক্তচাপ বেড়ে যায়ঃ

মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে মানুষের শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। 

৯.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়ঃ

মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে হাতে পায়ে ফোড়া, রক্তনালী ব্লক এবং পরবর্তীতে অঙ্গহানি, রক্ত বাহিত রোগ এইডস, হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া। 

এছাড়াও আরো নানন সমস্যা দেখা দেয়।যেমনঃ মাথা ব্যাথা করে, দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, কাজ করার আগ্রহ একেবারে কমে যায়, মতিভ্রম হয়, গ্যাস্টিক আলসার হয়, লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সার হয়, মুখে ঘা ও ক্যান্সার হয়, ফুসফুসে ক্যান্সার হয় ইত্যাদি। 

 মাদকাসক্তির পরিণতি অকাল মৃত্যু। সকল মাদক গ্রহণে স্বাস্থ্যের দ্রুত ক্ষতি হয়। 

''জীবনকে ভালবাসুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন "

Comments

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ

I am article Writer