মার্কেটিং কি এবং কিভাবে করবেন

আসসালামুয়ালাইকুম পাঠকবৃন্দ। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমার নতুন একটি আর্টিকেলে আপনাকে স্বাগতম। আজ আমরা জানবো মার্কেটিং সম্পর্কে। মার্কেটিং কি এবং কিভাবে মার্কেটিং করতে হয় এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো আজকের আর্টিকেলটিতে। 

মার্কেটিং কি : 

কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পন্য বিক্রয় করতে হলে বেশ কিছু কাজ করতে হয়। যেমন : পন্যের প্রচার, মার্কেট রিসার্চ,পন্য উৎপাদন,পন্য সরবরাহ ইত্যাদি । এসব কাজ ছাড়া ব্যবসায়ে পন্যের বিক্রয় আশানুরূপ হয় না। 

পন্য বিক্রয়ের জন্য এই সকল কাজ করাকেই বলা হয় বিপণন বা মার্কেটিং।সহজ ভাষায় বলা যায়,কোনো ব্যবসায়ে পণ্য বিক্রয়ের কৌশলকে মার্কেটিং বলা হয়। ব্যবসায়ে সঠিকভাবে পন্য বিক্রয় করতে হলে মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে ও এ বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। 

মার্কেটিং এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্রেতার কাছে পন্যের যথাযথ ভ্যালু প্রদর্শন করা ও তা ক্রয়ে ক্রেতাকে উদ্বুদ্ধ করা।ক্রেতার কাছে পন্যের গুনগত মান ভালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন তা ক্রয়ে ক্রেতা আগ্রহী হয়। তবে শুধু পন্য বিক্রয় করলেই যে তা মার্কেটিং হয়ে যাবে তেমন কিন্তু নয়। মার্কেটিং এর নির্দিষ্ট কিছু কৌশল রয়েছে। এগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারলেই ব্যবসায়ে সফল হওয়া সম্ভব।

 মার্কেটিং কত প্রকার ও কি কি:

মার্কেটিংকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

১। বিজনেস টু বিজনেস মার্কেটিং 

২। বিজনেস টু কনজ্যুমার মার্কেটিং 

বিজনেস টু বিজনেস মার্কেটিং: 

এই মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এক ব্যবসায়ীর সাথে আরেক ব্যবসায়ীর লেনদেন সংঘটিত হয়।  যেমন : একটি হোলসেল প্রোডাক্ট সাপ্লাইয়ার কোম্পানির সাথে একজন রিটেইল প্রোডাক্ট সাপ্লাইয়ার কোম্পানির সাথে যে ব্যবসায়িক লেনদেনে ও মার্কেটিং করতে হয় সেটাকে বিজনেস টু বিজনেস মার্কেটিং বলা যায়। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীর সাথে ভোক্তার মধ্যে কোনো লেনদেন ও প্রোমোশন হয় না।

বিজনেস টু কনজ্যুমার মার্কেটিং: 

এই মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সরাসরি ক্রেতা বা ভোক্তার মধ্যে মার্কেটিং ও লেনদেন হয় । এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী গ্রাহকের চাহিদা টার্গেট করে পন্যের প্রচার প্রচারণা চালায়। যেমন : একজন কলম বিক্রেতা জনসাধারণের নিকট তার কলমের প্রচারণা চালায় ও তা কিনতে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করে । এটিই হলো বিজনেস টু কনজ্যুমার মার্কেটিং। 

যেভাবে মার্কেটিং করা যায়: 

মার্কেটিং করতে হলে এর বেসিক কিছু টিপস সম্পর্কে জানতে হবে। মার্কেটিং করতে কি কি লাগে ও কিভাবে তা করতে হবে সে সম্পর্কে আগে ধারণা রাখতে হয় । এজন্য ৩ টি উপায় অবলম্বন করে মার্কেটিং করা যায়। 

১. সনাতন বা ট্রেডিশনাল মার্কেটিং (Traditional Marketing)

২. ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing)

৩.ওয়ার্ড অফ মাউথ মার্কেটিং (Word of Mouth Marketing) 

সনাতন বা ট্রেডিশনাল মার্কেটিং: 

এক্ষেত্রে কিছু পুরনো পদ্ধতি ব্যবহার করে পন্যের প্রচারণা চালানো হয়। যেমন : ব্যানার , ফেস্টুন, লিফলেট, পত্রিকায় প্রকাশ,রেডিও ,টিভি ইত্যাদি। এসব উপায়ে খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। 

ডিজিটাল মার্কেটিং: 

বর্তমানে মার্কেটিং এর সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্ষেত্র হলো ডিজিটাল মার্কেটিং। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের উপযোগিতা সবার শীর্ষে। ডিজিটাল মার্কেটিংকে অনলাইন মার্কেটিং ও বলা হয়। ডিজিটাল মার্কেটিং এর আবার কয়েকটি ভাগ রয়েছে।যেমন: 

✓ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং 

✓ইমেইল মার্কেটিং

✓ কন্টেন্ট মার্কেটিং

✓এফিলিয়েট মার্কেটিং

✓এসইও (SEO) 

✓সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং ইত্যাদি।

এসব মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্যের প্রচারণা চালালে কম খরচে বেশি গ্রাহকের নিকট পণ্য সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেয়া যায়। 

ওয়ার্ড অফ মাউথ মার্কেটিং: 

এটি মার্কেটিং এর খুবই লাভজনক ক্ষেত্র । এখানে মূলত রিভিও দ্বারা মার্কেটিং করা হয়। কোনো পণ্য একটি গ্রাহক ব্যবহার করার পর সেটি ব্যবহার করে কেমন লেগেছে ও তা দ্বারা কি কি উপকারিতা পেয়েছে সেটা নিজের ভাষায় প্রকাশ করলে তাকে ওয়ার্ড অফ মাউথ মার্কেটিং বলে। 

যেমন, আপনি একটি মোবাইল ফোন কিনলেন এবং সেটির কোয়ালিটি খুব ভালো। এজন্য আপনি আপনার বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনের কাছে এই মোবাইল ফোনের ফিচারগুলো সম্পর্কে বললেন এবং এতে উৎসাহিত হয়ে তারা ও এই মোবাইল ফোনটি কিনতে চাইবে। এভাবেই ওয়ার্ড অফ মাউথ মার্কেটিং করতে হয়।

উপরোক্ত উপায়ে ব্যবসায়িক পণ্যের মার্কেটিং করা হয়। একজন সফল ব্যবসায়ী হতে হলে অবশ্যই সঠিক নিয়মে পণ্যের মার্কেটিং করতে হবে ও পণ্যের গুণগত মান যেন অক্ষুন্ন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সবশেষে বলা যায়,উপরোক্ত নিয়মে ব্যবসায়িক পন্যের মার্কেটিং করা যায়। আমি যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম তা প্রয়োগ করলে অবশ্যই মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারবেন। 

 

Comments

You must be logged in to post a comment.

লেখক সম্পর্কেঃ

আমি একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। লেখালেখি করতে ভালোবাসি।